সৈয়দপুরে নির্বাচন এলেই কদর বাড়ে বিহারি ভোটারদের

নীলফামারী-৪ আসনের (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) নির্বাচনী রাজনীতিতে অবাঙালি বা বিহারি ভোটারদের গুরুত্ব নিয়ে......

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নীলফামারী-৪ আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। আর এই নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের তুরুপের তাস হিসেবে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন সৈয়দপুরের অবাঙালি (বিহারি) ভোটাররা।

ভোট এলেই প্রার্থীদের কাছে তাদের কদর কয়েকগুণ বেড়ে যায়, তবে নির্বাচনের পর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে ক্যাম্পবাসীদের মধ্যে।

সৈয়দপুর পৌরসভার মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেকই (প্রায় ৬০ হাজার) উর্দুভাষী বা অবাঙালি ভোটার। ১৯৪৮ সাল থেকে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী এবং ২০০৮ সালে ভোটাধিকার পাওয়া ক্যাম্পবাসী—উভয় পক্ষ মিলিয়ে এই বিশাল ভোটব্যাংক যেকোনো প্রার্থীর জয় বা পরাজয় নির্ধারণে ‘কিংমেকার’ হিসেবে কাজ করে।

বিহারি ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা গ্রহণ করছেন নানা কৌশল, ভাষাগত সংযোগ: সভা-সমাবেশে বাংলা ভাষার পাশাপাশি উর্দুতে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রার্থীরা। কুশল বিনিময়, ভোটারদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপেও ব্যবহার করা হচ্ছে উর্দু ভাষা।ক্যাম্পে ক্যাম্প পরিভ্রমণ, প্রার্থীরা প্রতিদিন হাতিখানা ক্যাম্পসহ বিভিন্ন ক্যাম্পে সশরীরে উপস্থিত হয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

উর্দুভাষী ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মাজেদ ইকবালসহ সাধারণ ক্যাম্পবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে তারা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছেন। চিকিৎসা, শিক্ষা ও বাসস্থানের মতো মৌলিক অধিকার থেকে তারা অনেকাংশেই বঞ্চিত।

মোলায়েম হক (হাতিখানা ক্যাম্প) ভোট এসেছে বলে প্রার্থীরা এখন নিয়মিত আসছেন। কিন্তু বিপদের সময় কাউকে পাশে পাই না।"

 এবার তাকেই ভোট দেবো, যিনি ক্যাম্পের অবহেলিত মানুষের জন্য সত্যিকারের কাজ করবেন।"

বর্তমানে বিহারি ক্যাম্পের অনেক তরুণ উচ্চশিক্ষিত হয়ে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার কথা থাকলেও তাদের জীবনযাত্রার মান এখনো উন্নত হয়নি। এবারের নির্বাচনে তারা "প্রতিশ্রুতি নয়, উন্নয়ন"-কে ভোট দেওয়ার মাপকাঠি হিসেবে বেছে নিতে চান।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই

প্রথম মন্তব্য করার জন্য আপনাকে স্বাগতম!