একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা।

রাষ্ট্র সংস্কারের আমূল পরিবর্তন ও দীর্ঘমেয়াদী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বিএনপি।

শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের এই প্রতিশ্রুতিগুলো জাতির সামনে তুলে ধরেন।

ইশতেহারে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল নির্ধারণ এবং সংবিধানের বিতর্কিত ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের প্রস্তাব।

তারেক রহমান স্পষ্ট ঘোষণা দেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে বা মোট ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন। তিনি বলেন,

“যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন, তার পদের মেয়াদ ১০ বছরের বেশি হবে না—এই প্রস্তাবটি সর্বপ্রথম বিএনপিই ৩১ দফার মাধ্যমে জাতির সামনে দিয়েছিল। ইনশাআল্লাহ আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে আইনের মাধ্যমে এই বিধান নিশ্চিত করব।”

দীর্ঘদিন ধরে সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক মহলে আলোচিত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ (সংসদ সদস্যদের নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট না দেওয়ার বাধ্যবাধকতা) নিয়ে বড় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। তিনি জানান, বিএনপি এই অনুচ্ছেদটিকে একটি যৌক্তিক অবস্থানে নিয়ে আসবে এবং দু-একটি বিশেষ বিষয় ছাড়া এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

তারেক রহমান বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা পেতে দেশের মানুষের আস্থা একমাত্র অরাজনৈতিক বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার ওপর। বিএনপি আড়াই বছর আগেই তাদের ৩১ দফায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছিল। ক্ষমতায় গেলে প্রয়োজনীয় আইন পাসের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

ইশতেহারে তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন যে, বাংলাদেশকে প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে হলে নিরপেক্ষ ও আস্থাশীল ভোট ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিএনপির প্রস্তাবিত এই সংস্কারগুলো বর্তমানে বিভিন্ন কমিশন ও দলের আলোচনায় আসলেও এর মূল কৃতিত্ব বিএনপিরই।

ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই

প্রথম মন্তব্য করার জন্য আপনাকে স্বাগতম!