জেলা প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় নির্বাচনি প্রচারণায় ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের জুগিরহুদা গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের দাবি, জামায়াতের নারী কর্মীরা গ্রামে ভোট চাইতে গিয়ে জয়নাল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে বিকাশ নম্বর চান এবং বিনিময়ে টাকা দেওয়ার কথা বলেন।
এছাড়া ‘জামায়াতে ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে’—এমন কথা বলায় স্থানীয়রা প্রতিবাদ করেন। এর জের ধরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে একটি কালো মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলযোগে আসা জামায়াত কর্মীরা গ্রামবাসীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ৯ জন বিএনপি সমর্থক চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এবং ৫ জন জামায়াত সমর্থক আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।
বিএনপির আহতরা হলেন, মানিক মিয়া, মুক্তি খাতুন মুক্তা, রাকিব, রিক্তা খাতুন, হায়দার আলী বিশ্বাস, মিজানুর রহমান, আসাদুল হক, রেমনি খাতুন ও আরাফাত আলী।
জামায়াতের আহতরা হলেন, ওল্টু, মাসুদ, বাদশা, আরিফুল ও ইমরান। (এর মধ্যে একজনকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে)।
শরীফুজ্জামান শরীফ (ধানের শীষের প্রার্থী) খবর পেয়ে হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে তাঁর নারী কর্মীসহ ৯ জনকে আহত করেছে।
অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেন (জামায়াত প্রার্থী) তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমাদের কর্মীরা প্রচারণায় থাকা অবস্থায় বিএনপির সমর্থকরা হামলা চালিয়েছে। দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে এবং আমাদের ৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন।"
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আফরিনা ইসলাম জানান, আহতদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আলমডাঙ্গা থানার ওসি মো. বানী ইসরাইল জানান, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্য করার জন্য আপনাকে স্বাগতম!