ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর বৈশ্বিক অঙ্গন এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নিজের ক্ষমতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই যুদ্ধের পর তাঁর ক্ষমতার এখন কোনো ‘সীমা-পরিসীমা’ নেই।
গতকাল মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার প্রয়োগ এবং এর সীমাবদ্ধতা নিয়ে নতুন কোনো শিক্ষা বা ধারণা তিনি পেয়েছেন কি-না।
জবাবে ট্রাম্প বলেন, “তেমন কোনো ধারণা এখনও পাইনি। তবে আমি অনুভব করতে পারছি যে আমার ক্ষমতার কোনো সীমা নেই। হ্যাঁ, আমি জানি যে সাংবিধানিক সীমা আছে, কিন্তু সামগ্রিক অর্থে এখানে কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। আমরা সামরিকভাবে তাদের সম্পূর্ণ পরাজিত করেছি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “সত্যি বলতে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী আমাদের আছে। এমন কঠোর অবরোধ আর কে করতে পারত? আমি যখন নৌ অবরোধের নির্দেশ দিয়েছিলাম, ইরানের একটি জাহাজও বন্দর থেকে বেরোতে পারেনি। কয়েক বার তারা চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তাদের প্রতিটি চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।”
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের কাছ থেকে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করে আসছিলেন। সাম্প্রতিক ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি’ তাঁর সেই ইচ্ছা পূরণ করেছে কি-না— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, “বেশ, আমি মনে করি এটি সম্ভবত একটি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ।”
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা ৪০ দিন রক্তক্ষয়ী সংঘাত এবং এরপর ৮ এপ্রিল থেকে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পর গত ১৭ জুন প্যারিসে জি-৭ সম্মেলনের সাইডলাইনে এই ঐতিহাসিক ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তিতে’ স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় তাঁর পাশে ছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কিছুক্ষণ পর তেহরানে নিজ দপ্তরে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
এদিকে চুক্তিস্বাক্ষরের পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তিনি নীতিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা চুক্তির পক্ষে ছিলেন না। তবে ট্রাম্পের মরিয়া প্রচেষ্টা, কঠোর অর্থনৈতিক-সামরিক অবরোধ এবং আন্তর্জাতিক প্রভাব খাটানোর কারণেই শেষ পর্যন্ত ইরান এই চুক্তি স্বাক্ষরে রাজি হতে বাধ্য হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য আরও সুসংহত হলো।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্য করার জন্য আপনাকে স্বাগতম!