নিজস্ব প্রতিবেদক:নাজিম উদ্দিন দেওয়ানের শৈশব ও কৈশোর কাটে দক্ষিণখানের দেওয়ান পাড়ায়। তিনি উত্তরা আজমপুরের নওয়াব হাবিবুল্লাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ও কলেজের একজন ছাত্র ছিলেন। নির্বাচিত হলে এলাকাবাসীর জন্য কি কি কাজ করবেন তা নিম্নে তুলে ধরা হলো।
আমি আপনাদেরই সন্তান। আমরা হয়তো ভিন্ন ভিন্ন আদর্শ লালন করি, আমাদের মতভেদ থাকতে পারে—সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দিনশেষে আমাদের পরিচয় একটাই—আমরা ৫০ নং ওয়ার্ডের মানুষ। কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি বা ভেদাভেদ করে কখনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিভেদ আমাদের কেবল পিছিয়েই দেয়।
আমি কেন এই ৫০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছি এবং আপনাদের সেবক হিসেবে আমার পরিকল্পনাগুলো কী, তা নিচে তুলে ধরছিঃ
১. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাঃ-
কাউন্সিলর অফিস হবে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত। ওয়ার্ডের প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের বাজেট এবং অগ্রগতি সম্পর্কে আপনাদের সরাসরি জানানো হবে। আমি চাই এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে যেখানে প্রতিটি কাজের জন্য আমি আপনাদের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকি।
২. জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নঃ-
আমাদের ওয়ার্ডের প্রধান সমস্যাগুলোর একটি হলো সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা। আমি পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করব এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করব।
৩. আধুনিক ও সিসিটিভি নিয়ন্ত্রিত নিরাপদ ওয়ার্ডঃ-
এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এছাড়া নৈশ প্রহরীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থার মাধ্যমে চুরি, ছিনতাই ও ইভটিজিং মুক্ত একটি নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।
৪. মাদকমুক্ত সমাজ ও যুব উন্নয়নঃ-
তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে প্রতিটি এলাকায় খেলার মাঠ ও পাঠাগার সংস্কার করা হবে। কিশোর ও যুবকদের সৃজনশীল কাজে উদ্বুদ্ধ করতে নিয়মিত ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
৫. স্বাস্থ্যসেবা ও বয়স্কদের সম্মানঃ-
ওয়ার্ডের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে জরুরি চিকিৎসাসেবা ও ওষুধের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেব। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদানে সকল প্রকার স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি নির্মূল করা হবে।
৬. স্মার্ট নাগরিক সেবাঃ-
জন্ম নিবন্ধন, নাগরিক সনদ বা ওয়ারিশ কায়েম সনদের মতো জরুরি কাগজপত্রের জন্য যাতে কাউকে ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সেজন্য 'ওয়ান স্টপ ডিজিটাল সার্ভিস' চালু করা হবে।
৭. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ওয়ার্ডঃ-
'ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি' গড়ার লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময়ে বর্জ্য অপসারণ এবং সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে ওয়ার্ডকে মনোরম ও স্বাস্থ্যকর করে তোলা হবে।
৮. বৈষম্যহীন উন্নয়নের অঙ্গীকারঃ-
উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমি কোনো দল বা মতের ভেদাভেদ করব না। প্রতিটি রাস্তা, প্রতিটি অলিগলির সুষম উন্নয়ন আমার লক্ষ্য। আমি চাই আমাদের ৫০ নং ওয়ার্ড হবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের একটি রোল মডেল।
প্রিয় এলাকাবাসী,
আপনাদের ভালোবাসা আর বিশ্বাসই আমার মূল শক্তি। আমি আপনাদের শাসক নয়, বরং একজন আজীবন সেবক হয়ে আপনাদের পাশে থাকতে চাই। আপনাদের একটি সুচিন্তিত রায় আমাদের আগামীর স্বপ্ন পূরণে সহায়ক হবে।
আসুন, ভেদাভেদ ভুলে এলাকার স্বার্থে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্য করার জন্য আপনাকে স্বাগতম!