বেকারত্বের গন্ডি পেরিয়ে স্বাবলম্বিতার পথে গ্রাসরুট প্রফেশনাল ইন্সটিটিউট বদলে দিচ্ছে রংপুরের জীবনচিত্র

কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী) প্রতিনিধি : রংপুর বিভাগে শিক্ষিত বেকার, প্রতিবন্ধী, বিধবা ও তালাকপ্রাপ্ত নারী-পুরুষদের আত্মকর্মসংস্থানের পথ দেখাচ্ছে গ্রাসরুট প্রফেশনাল ইন্সটিটিউট, রংপুর। এনএসডিএ অনুমোদিত এবং বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে এসইডিএ (এ.এস.এস.ই.টি) প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অসহায় ও বেকার জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

 

এরই ধারাবাহিকতায় গ্রাসরুট কো-অপারেশনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রাসরুট প্রফেশনাল ইন্সটিটিউটের বাস্তবায়নে ৭২ জন প্রশিক্ষণার্থীর দ্বিতীয় ধাপের তিন মাসব্যাপী আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের রোববার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ সকালে রংপুর সদরের উত্তর খলেয়া এলাকার গ্রাসরুট প্রফেশনাল ইন্সটিটিউটের হলরুমে শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রাসরুট কো-অপারেশনের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক বুলবুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন দুঃস্থ উন্নয়ন সংস্থা (ডাস), রংপুরের নির্বাহী পরিচালক মো. চাঁদ মিঞা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্রাসরুট কো-অপারেশনের নির্বাহী পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন রাসেল।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জহুরুল হক বুলবুল বলেন, “দেশের শিক্ষিত বেকারত্ব দূর করতে দক্ষতা উন্নয়নই সবচেয়ে কার্যকর পথ। গ্রাসরুট প্রফেশনাল ইন্সটিটিউট শুধু প্রশিক্ষণই দিচ্ছে না; বরং আত্মবিশ্বাস, স্বাবলম্বিতা ও সম্মানজনক জীবনের ভিত্তি তৈরি করে দিচ্ছে।

 

সভাপতির বক্তব্যে নাসির উদ্দিন রাসেল বলেন, আমাদের লক্ষ্য কেবল প্রশিক্ষণ দেওয়া নয় প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরি করা। দেশ, মাটি ও মানুষের কল্যাণে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”

 

বিশেষ অতিথি চাঁদ মিঞা বলেন এই ধরনের আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ নারীর ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে এমন কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন।

 

জানা গেছে, তিন মাসব্যাপী এই প্রশিক্ষণে বিনামূল্যে ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স, টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং এবং ব্লক-বাটিক অ্যান্ড স্কিন প্রিন্ট এই তিনটি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি ট্রেডে ২৪ জন করে মোট ৭২ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করছেন।

 

প্রশিক্ষক নয়ন মোহন্ত জানান, ইলেকট্রিক্যাল প্রথম ব্যাচের ২৪ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ১৫ জন ইতোমধ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজন বিদেশে এবং দশজন আকিজ গ্রুপে চাকরি পেয়েছেন। এছাড়া ১১ জন টেইলারিং এবং পাঁচজন ব্লক-বাটিক ও স্কিন প্রিন্টিং পেশায় যুক্ত হয়েছেন।

 

প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে বড়ডুমুরিয়া পাইকারটারী গ্রামের মুকাররামা বেগম বলেন, “এই প্রশিক্ষণে এসে কাজ শিখে এখন ঘরে বসেই আয় করছি, সংসার চালাতে পারছি।”

 

মাসুমা তাসনিন তাবাস্সুম পিংকি সেলাই প্রশিক্ষণ শেষ করে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া শারমিন আক্তার ব্লক-বাটিক ও স্কীন প্রিন্টিং প্রশিক্ষণ নিয়ে বর্তমানে প্রশিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন।

 

ব্লক-বাটিক প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, আগে এই কাজ সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা ছিল না। এখন তারা অর্ডার নিয়ে কাজ করছেন এবং স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন।

 

গ্রাসরুট প্রফেশনাল ইন্সটিটিউটের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রতি তিন মাসে এক ব্যাচ হিসেবে বছরে চারটি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে সনদ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি নারীর অধিকার, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়।

 

সেলাই প্রশিক্ষক লাইজুতুনে জান্নাত জানান, প্রশিক্ষণ শেষে ইতোমধ্যে কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থী বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক তৈরির অর্ডার পেয়েছেন। এতে বেকার নারীদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শিক্ষিত বেকার ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

 

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই

প্রথম মন্তব্য করার জন্য আপনাকে স্বাগতম!